স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:

কখনো ডাকাতি, কখনো হত্যার অভিযোগ, আবার কখনো জমি দখল—অভিযোগের তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মুন্সিমুড়া এলাকার আরিফুল্লাহর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক মামলায় কারাভোগের পর জামিনে বা কারামুক্ত হয়ে তিনি ফের এলাকায় সক্রিয় হয়েছেন।

এবার ডাকাতির পাশাপাশি ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আরিফুল্লাহ শিলখালী ইউনিয়নের মুন্সিমুড়া এলাকার মৃত আবদু মোতালেবের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও জমি দখলসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি একাধিকবার কারাগারে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিলখালী ইউনিয়নের মুন্সিমুড়া এলাকার আবদু জাব্বারের ছেলে দুলাল হত্যা মামলা, সাপেরঘাড়া এলাকায় ডাকাতির অভিযোগ, সবুজপাড়া এলাকায় ধর্ষণের অভিযোগ, মিয়া হোসেন মেম্বারের স্ত্রী হত্যা মামলা, জসিমকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং নাজেম উদ্দিনের জায়গা জবরদখলের অভিযোগসহ একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলায় কারাভোগের পর এলাকায় ফিরে আরিফুল্লাহ আবারও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। আগে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে জমি দখল এবং পাহাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে আরিফুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীদের ব্যবহার করছেন। জমি দখল, বিরোধপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর কাজে অর্থের বিনিময়ে লোকবল সরবরাহ করা হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের।

সম্প্রতি মুন্সিমুড়া এলাকার আইয়ুব নামের এক ব্যক্তির পক্ষে আরিফুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা নাজেম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে জায়গা দখলের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাজেম উদ্দিনের দাবি, হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘আরিফুল্লাহকে এলাকার মানুষ ভয় পায়। তাঁর নাম বলে রাতে শিশুদের ঘুম পাড়ানো হয়। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও তাঁর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়।’

তাঁর অভিযোগ, অতীতের মামলাগুলোর কথা উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হয়। ফলে অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে চান না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শিলখালী থেকে পাহাড়ি এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন আরিফুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা। কোথাও জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে সেখানে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এতে কোনো নির্দিষ্ট পরিবার নয়, আশপাশের পুরো জনপদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও অভিযোগ, আরিফুল্লাহ বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে নয়, বরং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পক্ষের হয়ে জমি দখল ও বিরোধ মেটানোর নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কোনো জায়গা দখল বা প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দিতে হলে আরিফুল্লাহর নেতৃত্বাধীন একটি দলকে ব্যবহার করা হয়।

তবে কারা তাঁকে অর্থ দিয়ে ব্যবহার করছেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তিনি কতটা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা ও প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, তাহলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশেষ করে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বিরোধ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তদন্ত ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।